ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ , ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০২-২১ ১২:৪৮:৫৮
ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে নিখোঁজ কলেজছাত্র নুরুল্লাহ শাওনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

 

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় পৌনে ১১টার দিকে শহরের জয়নুল আবেদিন উদ্যান সংলগ্ন নদীর চরে মরদেহটি ভেসে ওঠে।

 

নিহত নুরুল্লাহ শাওন (২৬) নগরীর আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। গত দুই দিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

 

সহপাঠী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শাওন ও তার বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) জয়নুল আবেদিন উদ্যানের বিপরীত পাশ দিয়ে নদীর তীরে ঘুরতে যান। সন্ধ্যার দিকে অন্তত সাতজন কিশোর তাদের ঘিরে ধরে এবং কাছে থাকা জিনিসপত্র দিতে চাপ দেয়। টাকা না থাকায় দুজনকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে শাওন প্রতিবাদ করলে তাকে আরো বেধড়ক পেটানো হয়। পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় কয়েকজন শাওনের পিছু নেয় এবং বাকিরা মঞ্জুরুলকে ধাওয়া করে। মঞ্জুরুল প্রাণ বাঁচাতে নদীতে নেমে সাঁতরে অপর পারে উঠতে সক্ষম হলেও শাওন নিখোঁজ হয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্তদের একজন, ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

 

সূত্র আরও জানায়, বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে নদীর পাড়ে শাওনের ব্যাগ ও জুতা উদ্ধার হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালালেও প্রথমে কোনো সন্ধান মেলেনি। অবশেষে শুক্রবার রাতে নৌকার মাঝিরা নদীর চরে একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেন। পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

এ ঘটনায় সহপাঠীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মধ্যরাতে শহরের টাউন হল মোড়ে জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ করেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে শাওনের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করে করা অভিযোগটি পরে মামলায় রূপ নেয়। অভিযুক্তদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নাজমুস সাকিব জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত চলমান রয়েছে।

 


নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ